Main Slogan:

হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর (সূরা বাকারা : ২০৮)
Islamic Post লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Islamic Post লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

আধ্যাত্মিকতা বিষয়ক বিশেষ ব্লগ- ব্রাউজ এবং শেয়ার করুন প্লীজ Spiritual A2Z

আধ্যাত্মিকতা দ্বীন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দ্বীনে আধ্যাত্মিকতা ও জাগতিকতার সুষম সমন্বয় রয়েছে। আধ্যাত্মিকতায় রয়েছে এই দ্বীনের বিশাল শক্তিমত্ত্বা। এই সম্পর্ক কিছু জানার জন্য এই ব্লগ ব্রাউজ করুন: 

https://spiritualaz.blogspot.com



রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২

“আল্লাহর দ্বীনের হেফাজত কর, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন”

রাছুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “ইহ্ফাজিল্লাহা ইয়াহ্ফাজুকা” অর্থাৎ “আল্লাহর দ্বীনের হেফাজত কর, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন” (মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত সহীহ হাদীস)।  আল্লাহর দ্বীন তথা দ্বীন ইসলামের হেফাজতের দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলমানের। এক্ষেত্রে হকপন্থী আলেম-ওলামা ও ইসলামী সংগঠনের অগ্রগামী ও নেতৃত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। যদি মুসলমান এই দায়িত্ব পালন না করে তাহলে তারা আল্লাহ’র হেফাজত থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে মুসলমান সমাজে পাপাচারের বিস্তৃতি, অপরাধী শক্তির প্রাধাণ্য, অন্য জাতির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা - পরাধীনতা, নির্যাতন ইত্যাদি ভয়াবহ আযাব-গযবের আবির্ভাব ঘটবে। 

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

গণতন্ত্র, সহিংসতা ও ইসলামের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয়

গণতন্ত্র, সহিংসতা ও ইসলামের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয়
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
Written Date: 1/7/14 









    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সাথে এক সাক্ষাতে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে সহিংসতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ এটা সঠিক নয়। বর্তমান বিশ্বে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর নেতা, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ ও শান্তিতে নোবেল জয়ী নেলসন ম্যান্ডেলা হলেন গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কঠোর দমননীতিতে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয় তখন নেলসন ম্যান্ডেলা সশস্ত্র অন্তর্ঘাতের পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তিনি আত্মগোপনে থেকে নানা সময় নানা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাঁর সংগ্রাম পরিচালনা করেন। পরে তিনি গ্রেফতার হন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সংগ্রাম বিজয়ী হয়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আরেকটি দৃষ্টান্ত হল, আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম উৎপত্তিস্থল বৃটেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখে সশস্ত্র যুদ্ধ। ওলিভার ক্রমওয়েল ১৬৪৬ সালের ১৪ জুন সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাজা প্রথম চার্লসকে পরাজিত করেন এবং পরে মৃত্যুদন্ড দেন। আর বৃটেনে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম সাধারণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাঁর এই প্রচেষ্টা বৃটেনে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার উক্ত কথা একদিক থেকে ভুলই বলা যায়। প্রয়োজনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহিংসতা অনিবার্য পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। আমরা তন্ত্র-মন্ত্র বুঝি না, আমরা বুঝি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জুলুমের অবসান ঘটাতে হবে, অবিচার বিদায় করতে হবে, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, ইসলামের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী করতে হবে, সর্বোপরি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজনে ন্যায়সংগত যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তবে সহিংসতা কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়। রাছূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন: “লা তামান্না লি কায়াল আদুয়্যি, সালুল্লাহাল আফিয়াতা, ফায়িজা লাকিতুমুহুম ফাছবির। ওয়ালামু আন্নাল জান্নাতা তাহতা জিলালিছ ছুয়ুফ” অর্থাৎ “শত্রুতা কামনা করো না, আল্লাহ্’র কাছে শান্তি-নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, তারপরও যদি যুদ্ধের সম্মুখিন হয়ে যাও তাহলে তাতে ধৈর্য-দৃঢ়তা অবলম্বন করো। জেনে রাখো, তরবারীর ছায়াতলেই বেহেস্ত” (সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ)। মহান আল্লাহ তা’লা বাংলাদেশের সকল ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতাকামী শক্তিকে সঠিক কর্ম-কৌশল গ্রহণের তৌফিক দান করুন এবং ঐ লক্ষ্যে পরিচালিত সকল সংগ্রামকে পূর্ণ সাফল্য দান করুন, আমীন।



মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

যাদের বিরুদ্ধে নবী মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর দরবারে উম্মতের বিচারপ্রার্থী হবেন

যাদের বিরুদ্ধে নবী মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর দরবারে উম্মতের বিচারপ্রার্থী হবেন

-জুলফিকার আহমদ কিসমতী
সাধারণভাবে মুসলমানদের মধ্যে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা)-এর ব্যাপারে এই আকাক্সক্ষা সকলের মধ্যেই বিদ্যমান যে, কাল কেয়ামতের দিন বিপদের সময় তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন, আমাদের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন এবং ঐ মহা বিপর্যয়ের মুহূর্তে খুব পিপাসায় ক্লান্ত উম্মতদের তিনি হাউজে কাউসারের সুপেয় শরবত পান করাবেন। কিন্তু পবিত্র কুরআনের সূরা ফোরকানের ৩০-৩২ নম্বর আয়াতে নবী মুহাম্মদ (সা) যে তাঁর উম্মতের একটি শ্রেণীর বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে মামলা-মোকদ্দমাও দায়ের করবেন, সে কথাটির চর্চা খুব কমই হয়ে থাকে। অথচ এটি এমন একটা ভয়ের কথা যেদিকে আমাদের দৃষ্টি অধিক থাকা দরকার। কারণ আল্লাহর যেই মহাগ্রন্থ কুরআন, সেটির প্রতি আমাদের অপরিসীম ভক্তি শ্রদ্ধা থাকলেও তার মর্মবাণী অনুধাবনের চেষ্টা আমরা খুব কম লোকই করে থাকি। কাজেই একথা জেনে নেয়া সকলের জন্য অপরিহার্য, তাঁর কোন্ চরিত্রের উম্মতের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করবেন। নবী জীবনের অবিস্মরণীয় ঘটনা মিরাজ রাজনীতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ ও তাঁর সাথে কথা বলার মতো সৌভাগ্য অর্জনের মুহূর্তেও যিনি তাঁর উম্মতদের কথা ভুলেননি, আজ সেই দয়ালু নবী কেন ও কোন্ ধরনের উম্মতের বিরুদ্ধে রাগান্বিত হয়ে পরম প্রভুর কাছে অভিযোগ জানাবেন ও মামলা দায়ের করবেন, তা জানা সকলের একান্ত প্রয়োজন। মহানবী (সা) ‘কুরআন পরিত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে যেই শব্দে আল্লাহর দরবারে মামলা করবেন, সেই দরখাস্তের শব্দাবলিও আল্লাহ আগে ভাগে সতর্ক হবার জন্যে কুরআন মজিদে উল্লেখ করেছেন, যার উদ্ধৃতি হলো এই : ইয়া রাববী! ইয়া কওমিত্তাখাযু হাযাল কুরআনা মাহজুরা অর্থাৎ ‘(সেদিন) রাসূলুল্লাহ বলবেন, ‘হে প্রভু! আমার উম্মতের (এ সমস্ত লোক) আল-কুরআনকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে দিয়েছিল’ (সূরা ফুরকান : ৩০-৩২)। ‘কুরআন পরিত্যাগ’ বলতে কি বুঝায় তা কেবল হাদিস এবং নিজের সাধারণ জ্ঞান দিয়ে নয়, খোদ পবিত্র কুরআনের অন্য বক্তব্যের আলোকে কি বুঝায় তাই এখানে উপস্থাপন করছি, যা সকল মুসলমানেরই গভীরভাবে ভেবে দেখা অত্যাবশ্যক।
কুরআন পরিত্যাগের অর্থ হলো : (১) কুরআন শরীফ বিশুদ্ধভাবে পাঠ না করা। কারণ সূরা মুয্যাম্মিল-এ আল্লাহ এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘ওয়া রাত্তিলিল কুরআনা তারতিলা’- ‘আর তোমরা ‘তারতীল’ সহকারে শুদ্ধ ভাষায় কুরআন পাঠ করবে।’ ইলমে তাজভীদের পরিভাষায় ‘তারতীল’ শব্দের অর্থ হলো আরবি যেই অক্ষর জিহবার যেখান থেকে উচ্চারণ করার নিয়ম আরবি ধ্বনিতত্ত্ব অনুযায়ী সেই অক্ষর সেখান থেকেই উচ্চারণ করে পড়া। যেমন ‘যাল’ অক্ষরের স্থলে ‘জিম’ অক্ষর না পড়া, ‘আইন’ অক্ষরের স্থলে ‘হামযা’ অক্ষর উচ্চারিত না হওয়া ইত্যাদি।
(২) কুরআনের আয়াতের অর্থ না জানা। পবিত্র কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ)-এর মাধ্যমে মহানবী (সা)-এর ওপর বিশ্বমানবের কল্যাণে পথনির্দেশক এবং ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য, বৈধ-অবৈধের মধ্যে পার্থক্যকারী পরিপূর্ণ বিধানগ্রন্থ। এর অর্থ জানার জন্য এ কারণেই আল্লাহর নির্দেশ হলো : ‘হাত্তা তা’লামূ মাতাকুলুন- নামাজে তুমি যেসব আয়াত পড়ে থাকো, তা যেন বুঝো।’ এ আয়াতটি নাযিলের প্রেক্ষাপট অন্য কিছু হলেও কুরআন যে বুঝে পড়তে হবে সে বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় নেই। কেউ ভাষার বিভিন্নতা কিংবা তার কোনো অবৈধ খাদ্যের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মাদকতার দরুন সাধারণ জ্ঞানশূন্যতা যে কারণেই হোক, কুরআনের অর্থ অনুধাবনে অপারগ হলে সেই বাধা তার দূর করতে হবে। অর্থাৎ যখন তার অর্থ অনুধাবনের অবস্থা বর্তমান থাকবে তখন কুরআন পাঠের সময় অর্থ বুঝার প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। তেমনি অর্থ বুঝতে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা থাকলে হয়তো কেউ বলতে পারেন, আমি অনারবি, কি করে অর্থ বুঝবো? এই বলে অর্থ অনুধাবন থেকে দূরে থাকতে চাইলে, এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য না হবারই কথা। কারণ, তখন যদি আল্লাহ তাআলা পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন যে, তুমি প্রাইমারি, হাইস্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির নির্ধারিত সকল পাঠ্যবই পড়ার সময় পেলে, বহু সময় ব্যয় করে পত্রপত্রিকার খবর পড়ার সময় পেলে, রাত-দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে জাতীয় ও বিশ্বকাপের বিভিন্ন খেলা দেখার সময় পেলে, আমার কুরআন বুঝার জন্যে তুমি কি পরিমাণ সময় ব্যয় করেছিলে? তখন এ প্রশ্নের জবাব দেয়া কারো পক্ষে বোধ হয় সম্ভব হবে না। আসলে, এটাকে অনন্তকালের সুখ-শান্তির জন্যে জরুরি মনে করা হলে, এটা কোন সমস্যাই নয়। দেশের বড় বড় যোগ্য ইসলামী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ স্থানীয় ভাষায় কুরআন মজিদ-এর একাধিক নির্ভরযোগ্য তরজমা রেখে গেছেন, যেগুলো বাজারে অতি সহজেই পাওয়া যায়। অন্তত একটি অনুবাদ সম্বলিত কুরআন শরীফ কিনেও তো নিজেও পরিবারের সকলে আল্লাহর এই নির্দেশের ওপর আমল করা যায়। তারপরও কেউ তা না করলে, কুরআন শুদ্ধ করে না পড়লে যেমন নবীর দায়েরকৃত মামলার আসামি হবে, তেমনি এভাবে অর্থ বোঝার জন্য সময় না দিলেও অভিন্ন কারণে অভিযুক্ত হবারই কথা।
৩. অর্থ বোঝার পর অতঃপর সে অনুযায়ী আমলে সালেহ বা আয়াতের আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী আমল করার প্রশ্ন আসে। কারণ আল্লাহ বারবার পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘‘ইন্নাল্লাযিনা আমানু ওয়া আমেলুস সালেহাত’’- যারা সুষ্ঠু আমল করে, তাদের জন্যই জান্নাত। কেউ আমল করলো কিন্তু সেটা সালেহ বা সুষ্ঠু মানের হলো না, তাহলে আয়াতের অর্থ জানলেও আমল না করার এবং আমল করলেও তা সুষ্ঠু ও লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী না হলে সেটাও আমল না করার পর্যায় বলে বিবেচিত হবে। যেমনÑ একজন রাজমিস্ত্রি একটি পাকা খুঁটি ইট, সিমেন্ট, বালু ইত্যাদি ব্যয় করে নির্মাণ করলো কিন্তু নির্মাণ উপায়-উপকরণাদি যথার্থ মানের না হওয়াতে সেটি এক মাস পর ধাক্কা দেয়ার সাথে সাথে ভেঙে পড়লো। এক্ষেত্রে বুঝা গেল, আমল বা কাজ হয়েছে সত্য কিন্তু তা ‘সালেহ’ সুষ্ঠু বা লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী হয়নি। এটা যেমন সেই নামাজির মতো যিনি নামাজের বাহ্যিক সব আমল পালন করেছেন ঠিকই, কিন্তু ‘হুযুরি কলব’ অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে, তাকে হাজির নাজির না জেনে নামাজ না পড়ায়, তার নামাজের ‘আমল’ হলেও মূল লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে এটাও কুরআন পরিত্যাগের একটি কাজ করা হলো।
৪. তদরূপ পবিত্র কুরআনে আছে, ‘বাল্লিগ মা উনযিলা ইলাইক’- ‘তোমার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে’, অর্থাৎ কুরআনের আয়াতে তার মাধ্যমে যেসব নিয়ম-নীতি ও শিক্ষা আদর্শ দেয়া হয়েছে, সেগুলোর তাবলিগ করো, নিজের সন্তান, পরিবার, প্রতিবেশী ও অন্যদেরকেও সব হুকুম-আহকাম পালনে অবাধ্যতাজনিত শাস্তির ব্যাপারে তাদের সতর্ক করো। কেউ যদি ইসলাম প্রচারের এই নির্দেশের ওপর আমল না করলো, ‘আমর বিল মারূফ’- ‘সৎ কাজের হুকুম’ বা দ্বীনের দাওয়াত অপরের কাছে না পৌঁছালো, তাহলে এক্ষেত্রে সে কুরআনের উক্ত হুকুম অমান্য করে কুরআনকে পরিত্যাগ করলো। সুতরাং কুরআন পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখার অপরাধে সে অভিযুক্ত হলো।
৫. এভাবে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ নির্দেশ করেছেন, তিনি আল্লাহর রাসূলকে পাঠিয়েছেন দ্বীন তথা ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও বিধি-বিধানসমূহকে ব্যষ্টি ও সমষ্টি জীবনে মানবরচিত অন্যান্য বিধি ব্যবস্থার ওপর বিজয়ী তথা এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। যেমন সূরা সাফে ইরশাদ হচ্ছে : ‘‘হুয়াল্লাযি আনযালা রাসূলাহু বিল্হুদা, ওয়া দ্বীনিল হাক্কি, লেইউযহিরাহু আলাদ্দীনে কুল্লিহী ওলাও কারিহাল মুশরিকুন।’’ অর্থাৎÑ আল্লাহ সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে বিভিন্ন পথনির্দেশক বিধি-বিধান ও আইন-কানুন দিয়ে এ জন্য পাঠিয়েছেন, যেন তিনি আল্লাহর জীবন বিধানকে (মানবরচিত) বিধি-বিধান ও মতাদর্শের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও তাকে মুশরিক (আল্লাহর অবাধ্যরা) অস্বস্তিবোধ করবে, জ্বলে পুড়ে মরবে।
সুতরাং কেউ উপরোক্ত চারটি কাজ সম্পাদন করলেও যদি ব্যষ্টি ও সমষ্টি জীবনে আল্লাহর দীনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার পঞ্চম কাজটি না করলো, ‘ইযহারে দীন’ ও ‘ইকামতে দীনে’র প্রচেষ্টা ও আন্দোলনে সক্রিয় সহযোগিতার দায়িত্ব পালন না করে নির্লিপ্ত ভূমিকা অবলম্বন করলো, তিনিও এ পর্যায়ের কুরআনি নির্দেশ অমান্য করে কুরআনকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।
উল্লিখিত পাঁচটি কারণই কুরআনের আয়াতনির্ভর। কাজেই এগুলো অস্বীকারের কোন উপায় নেই। বলাবাহুল্য, মহানবী (সা) ও তাঁর সঙ্গীদের একটি আদর্শ জাতি ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তাঁদের জীবনের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে কুরআনের এই শিক্ষারই প্রোজ্ব¡ল দৃষ্টান্ত ভেসে ওঠে। অতএব, প্রতিটি ঈমানদার মুসলমানকে কেয়ামতের দিন মহানবী (সা) কর্তৃক আল্লাহর দরবারে আনীত মোকাদ্দমায় অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা থেকে রক্ষা পেতে হলে তাদের প্রতি পবিত্র কুরআনের দাবি অবশ্যই পূরণ করতে হবে আর এ জন্য অধিক পরিমাণে কুরআন চর্চার প্রতি সকলকে মনোযোগী হতে হবে : ১. তাজভিদুল কুরআন ২. ফাহ্মুল কুরআন ৩. আমল বিল কুরআন ৪. তাবলিগুল কুরআন ও ৫. ইযহারুল কুরআনের এই ৫টি দাবি যথাযথভাবে সকলের পূরণ করা একান্ত জরুরি। অন্যথায় পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত এই আয়াতের ভিত্তিতে তার ব্যতিক্রমকারীদের বিপদের আশঙ্কা আছে বৈ কি!

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০১৪

ধূমপান একটি অপরাধ : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

ধূমপান একটি অপরাধ : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

-লেখক : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান


আমরা সকলে জানি ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। কথাটা অনেকে সেচ্ছায় বলেন অনেকে বলেন বাধ্য হয়ে। যাই হোক ধুমপানের ক্ষতির তুলনায় শ্লোগানটা খুবই হাল্কা। কারণ ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, আত্মার জন্য ক্ষতিকর, স্বভাব-চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর, পরিবার-পরিজন প্রতিবেশী সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমার কাছে এর চেয়ে বড় ক্ষতির দিক হলো ধুমপানের মাধ্যমে ইসলামের নীতি আদর্শ লংঘন। আমি অনেক ধর্মপ্রান লোকজনকে দেখেছি তারা ধূমপান করেন। এমনকি বাংলাদেশের এক শহরের এক মসজিদে দেখেছি ইমাম সাহেব নামাজের ইমামতি শেষে মসজিদে বসেই সিগারেট ধরিয়ে পান করলেন । ঐ অঞ্চলের এক ইমাম সাহেবকে দেখেছি জুমার দিন মসজিদের মিম্বরে বসে বক্তৃতা দিচ্ছেন আর সিগারেট টানছেন। এ সকল ধর্মপ্রান মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের যখন আপনি বলবেন ধূমপান জায়েজ নয় তখন তারা তা মানতে চান না। অনেক যুক্তির সাথে তারা এ টাও বলেন মক্কা শরীফের মত পবিত্র স্থানেও ধূমপান করতে দেখেছি, যদি জায়েযই না হতো তা হলে কি ..। মুলত এদের উদ্দেশ্যেই আমার এ লেখা।

তারা বলেন : আল-কুরআনে তো বলা হয়নি ‘তোমরা ধূমপান করো না।’ হাদীসে রাসূলে কোথাও নেই যে, ‘ধূমপান করা যাবে না’, তা হলে ধূমপান ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ হলো কিভাবে?
এ প্রশ্নটির সন্তোষজনক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে এ প্রবেন্ধ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

( وَيحُِلُّ لهَُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيحَُرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَْبَائِثَ. (الأعراف : ١٥٧
“তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দেন ভাল ও উত্তম বস্তু আর হারাম করে দেন খারাপ ও ক্ষতিকর বস্তু।” (সুরা আল-আরাফ : ১৫৭)

এ আয়াতের ভিত্তিতে এমমন বহু জিনিষ আছে যা হারাম হয়েছে অথচ তা কুরআন হাদীসে নাম ধরে বলা হয়নি। আমরা সাপ খাই না। কেন খাই না। কুরআন- হাদীসে কোথাও কি আছে তোমরা সাপ খেয়ো না ? নেই ঠিকই, কিন্তু উক্ত আয়াতের ভিত্তিতে তা হারাম হয়ে গেছে। কেননা তা ক্ষতিকর ও খারাপ। ধূমপান ক্ষতিকর ও খারাপ। এ ব্যাপারে দুনিয়ার সুস্থ বিবেক সম্পনড়ব সকল মানুষ একমত। কোন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী দ্বি-মত পোষণ করেননি। তারপরও যদি কেহ বলেন, ধূমপান শরীয়তের নিষিদ্ধ বস্তুর মধ্যে পড়ে না তা হলে তাকে ঐ ডায়াবেটিস রোগীর সাথে তুলনা করা যায় যিনি ডাক্তারের নির্দেশ মত চিনি ত্যাগ করলেন ঠিকই কিন্তু রসগোল্লা, চমচম, সন্দেশ সবই খেলেন আর বললেন কই ডাক্তার তো এ গুলো নিষেধ করেননি!
আল-কুরআনের আলোকে :


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :

( وَيحُِلُّ لهَُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيحَُرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَْبَائِثَ (الأعراف : ١٥٧

“তিনি তোমাদের জন্য পবিত্র ও ভাল (তাইয়েবাত) বস্তু হালাল করেন আর ক্ষতিকর- নোংড়া ( খাবায়িস) জিনিষ হারাম করেন। (সূরা আল-আরাফ :১৫৭)



আর ধূমপান নিশ্চয়ই খাবায়িস এর অন্তর্ভুক্ত, তাই তা পান করা বৈধ (হালাল) নয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

( وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ. (البقرة : ١٩٥
“তোমরা নিজেদের জীবন ধংশের সম্মুখীন করো না।” (সূরা আল-বাকারা : ১৯৫)

এ আয়াতের দাবীতেও ধূমপান নিষেধ। কেননা ধুমপানের কারনে অনেক জীবন বিধংসী রোগ ব্যধি হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাআলা মদ ও জুয়া হারাম করতে যেয়ে বলেন :

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الخَْمْرِ وَالمَْيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا.
( (البقرة : ٢١٩
“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।” (সূরা আল-বাকারা:২১৯)



আল্লাহ তাআলার এ বানী দ্বারা বুঝে আসে মদ জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও তা হারাম করেছেন। তাহলে ধূমপান তো মদ জুয়ার চেয়েও জঘন্য। কারন তাতে কোন ধরনের উপকার নেই। বরং একশ ভাগই ক্ষতি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামবাসীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন :

لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ
“এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবে না ক্ষুধা ও নিবারণ করবে না।” (সূরা আল-গাশিয়াহ : ৭)

ধুমপানের মধ্যে এ বৈশিষ্ট্যই রয়েছে যে তা পান কারীর পুষ্টির যোগান দেয় না, ক্ষুধাও নেভায় না। ধুমপানের তুলনা জাহান্নামবাসীর খাবারের সাথেই করা যায়।


আল্লাহ তায়ালা বলেন:

إِنَّ المُْبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ

“তোমরা অপচয় করো না। অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা আল-ইসরা :২৭)

ধূমপান একটি অপচয়। অনেক এমন অপচয় আছে যাতে মানুষের লাভ-ক্ষতি কিছু নেই। এগুলো সকলের কাছে অন্যায় ও সর্বসম্মতভাবে তা অপচয় বলে গণ্য। কিন্তু ধূমপান এমন একটি অপচয় যাতে শুধুই মানুষের ক্ষতি। কোন লাভই নেই।
হাদীসের আলোকে :


রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

إن الله كره لكم ثلاثا : قيل وقال وكثرة السؤال وإضاعة المال.

“আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের তিনটি বিষয় ঘৃণা করেন।

  1. ভিত্তিহীন ও সনদ-সুত্র বিহীন কথা-বার্তা।
  2. অধিকহারে প্রশ্ন করা।
  3. সম্পদ নষ্ট করা।” (বুখারী ও মুসলিম)
ধূমপানকারী ধূমপান করে সম্পদ নষ্ট করে এ ব্যাপারে কারো দ্বি-মত নেই।


রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذي جاره

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।”
(বুখারী)



ধূমপানকারী তার ধুমপানের দ্বারা স্ত্রী-পরিজন, সহযাত্রী, বন্ধু – বান্ধব ও আশে-পার্শের লোকজনকে কষ্ট দিয়ে থাকে। অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে ধূমপান কারীকে অভিশাপ দেন। আবার দু একজন প্রতিবাদ করে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যান। আমি বাসে ও ট্রেনে বসে অনেক ধূমপানকারীকে আদবের সাথে বলেছি ভাই সিগারেটটা শেষ করুন। আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এতে তিনি আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়ে বকাবকি করেছেন, আমাকে একটা গাড়ী বা ট্রেন কিনে তাতে আলাদা ভাবে চলাফেরা করার হুকুম দিয়েছেন। আবার এও বলেছেন “মনে হয় গাড়ীটা উনি কিনেই নিয়েছেন”

চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় ও প্রমানিত ধূমপানকারীর প্রতিবেশী শারিরিকভাবে অনুরূপ ক্ষতিগ্রস্থ হন যে রূপ ধূমপানকারী হয়ে থাকেন।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :
“হালাল স্পষ্ট, এবং হারাম স্পষ্ট। এ দুয়ের মাঝে আছে সন্দেহ জনক বিষয়াবলী। (তা হালাল না হারাম ) অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি এ সন্দেহ জনক বিষয়গুলো পরিহার করল, সে তার ধর্ম ও স্বাস্থ্য রক্ষা করল। আর যে এ সন্দেহ জনক বিষয়গুলোতে লিপ্ত হল সে প্রকারান্তরে হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ল .. .. (বুখারী ও মুসলিম)


তাই যারা ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কোন প্রমাণাদি পাচ্ছেন না তাদের কমপক্ষে এ হাদীসটির প্রতি দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه
“যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোন উপকারে আসে না, তা পরিহার করা তার ইসলামের সৌন্দর্য।” (মুসলিম)

আমরা সকলেই স্বীকার করি যে ধূমপান কোন উপকারে আসে না। বরং ক্ষতিই করে।

বাস্তবতার আলোকে :


কোন পাক ঘরে যদি জানালায় কাচ থাকে অথবা বাল্ব থাকে তাহলে দেখা যায় ধোঁয়ার কারনে তাতে ধীরে ধীরে কালো আবরন পড়ে। এমনি ভাবে ধূমপান কারীর দাতে , মুখে ও ফুসফুসে কালো আবরন তৈরী হয়। কাচের আবরন পরিস্কার করা গেলেও ফুসফুসেরকালিমা পরিস্কার করা সম্ভব হয় না। ফলে তাকে অনেক রোগ ব্যধির শিকার হতে হয়।
একজন অধুমপায়ী ব্যক্তির চেয়ে একজন ধুমপায়ী অধিকতর উগ্র মেজাজের হয়ে থাকেন। সমাজে যারা বিভিনড়ব অপরাধ করে বেড়ায় তাদের ৯৮% ভাগ ধূমপান করে থাকে। যারা মাদক দ্রব্য সেবন করে তাদের ৯৫% ভাগ প্র মে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়েছে তারপর মাদক সেবন শুরু করেছে। এমনকি ধুমপায়ী মায়ের সন্তান উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে ( সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব তারিখ ১৫-১২-২০০০ ইং)
সম্প্রতি উইনকনসিন বিশ্ব বিদ্যালয়ে ৩৭৫০ জন লোকের উপর এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে অধুমপায়ীদের চেয়ে ধুমপায়ীদের শ্রবন শক্তি কমার সম্ভাবনা শতকরা ৭০ ভাগ বেশী থাকে। গবেষকরা আরো দেখেছেন যে, একজন ধুমপায়ীর ধূমপানকালীন সময়ে কোন অধুমপায়ী উপস্থিত থাকলে তারও একই সমস্যা দেখা দেবে।
(সুত্র : সাপ্তাহিক আরাফাত বর্ষ ৪৫ সংখ্যা ১, ১৮ই আগস্ট ২০০৩)
তাই আসূন সকলে মিলে আমরা আমাদের সমাজকে ধূমপান মুক্ত করার চেষ্টা করি।

Related Link:
ধূমপানের কুফল ও প্রতিকার
পরোক্ষ ধূমপানের কুফল
পরোক্ষ ধূমপানের কুফল

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১২

সদকায়ে জারিয়া হিসেবে যেসব কাজ সহজে করা সম্ভব - Sodkae Jaria

 সঠিক পদ্ধতি ও সহিহ নিয়তে করা মুমিনের কোনো নেক আমলই বৃথা যায় না। আল্লাহতায়ালার কাছে এর বিনিময় সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু মৃত্যুর পর যেহেতু কোনো আমল করা সম্ভব নয়, তাই সওয়াব ‘কামাই করা’ও অসম্ভব। তবে এমন কিছু আমল আছে, যা জীবদ্দশায় করে গেলে মৃত্যুর পরও সওয়াব ও উপকারিতার ধারা অব্যাহত থাকে। এগুলোকে সদকায়ে জারিয়া বলে।

‘সদকা’ শব্দের অর্থ দান করা। আর ‘জারিয়া’ অর্থ অব্যাহত। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে শরিয়তসম্মত এমন কল্যাণকর কাজে দান করা। ইসলামের বিধান মতে, সদকামাত্রই উপকারী ও বিরাট সওয়াবের কাজ। এর বহু প্রকার ও ধরন রয়েছে। কিছু সদকা আছে অস্থায়ী। যেমন কাউকে খাদ্যদ্রব্য দান করা। আর কিছু সদকা আছে স্থায়ী। যেমন মসজিদ নির্মাণ করা।

সদকায়ে জারিয়ার কারণে মৃত্যুর পরও দানকারীর ‘সওয়াব সঞ্চয়’ সমৃদ্ধ হতে থাকে। এর স্রোতধারা তার ‘পুণ্য তরি’কে চলমান রাখে। এটা আল্লাহতায়ালার বিশেষ নিয়ামত ও রহমত। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমলের ধারা বন্ধ হয়ে গেলেও জীবদ্দশায় নির্দিষ্ট কিছু আমল করে গেলে মৃত্যুর পরও সওয়াব জারি থাকে। অর্থাৎ মানুষ নিজেই নিজের জন্য সওয়াব পৌঁছার ব্যবস্থা করে যেতে পারে এবং চাইলে অন্য কেউও তাকে সওয়াব পৌঁছাতে পারে। এ উভয় পদ্ধতিই আল্লাহতায়ালার একান্ত দয়া ও অনুগ্রহ।

প্রথম পদ্ধতিটির নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই। আলোচনার সহজতার জন্য একে ‘সওয়াব লাভের উপায়’ বলা যেতে পারে। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি ‘ঈসালে সওয়াব’ নামে অধিক পরিচিত। সম্প্রতি কাতার প্রবাসী মাওলানা রফিক আহমদ সামাদ এমনই কিছু ভালো কাজের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে খুব সহজেই আমল করা সম্ভব। কাজগুলো হলো-


১. একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।

২. একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি ঘরের জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য, এটাও এক ধরনের সদকা।

৩. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরিবকে দান করুন। সুযোগ থাকলে নতুন জামা যেদিন কিনবেন, সেদিনই এক সেট পুরাতন জামা দান করুন।

৪. আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোনো অন্যায় করেছেন, তখনই তাতে সাধ্যমতো টাকা-পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।

৫. বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে দোয়া লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে- ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন। একইভাবে ঘরের এমন কোনো স্থানে দোয়া লিখে রাখতে পারেন- যেটা সবার নজরে আসে।

৬. আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সাধ্যমতো সহায়তা করুন। মাসের কোনো একদিন নাস্তা না করে এতিম কোনো শিশুকে খাবার খাইয়ে দিন।

৭. আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন।

৮. কোনো মসজিদে কোরআন মজিদ রেখে দিন, যেকোনো ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর তেলাওয়াত করবে, তার জন্য ১০ গুণ সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলনামায়।

৯. আপনার পান করা গ্লাসের অবশিষ্ট পানি কোনো ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।

১০. আপনার মুসলমান ভাইবোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন, কারণ এ সময়টায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে।

১১. অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন; এটাও সদকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সদকা।

১২. ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।

১৩. কাউকে এক অক্ষর হলেও দ্বীন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তান-সন্ততি, বন্ধু-বান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দ্বীন অর্জন করবে, সে সব সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে- ইনশাআল্লাহ।

১৪. সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মদজিদ-মাদরাসায় দ্বীন শিক্ষা চালু থাকবে, হাসপাতালে রোগীরা সেবা পেতে থাকবে, গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন এবং খাবার পাবে, পান করার পানি পান করতে পারবে আপনার ব্যবস্থা করে দেওয়া পানির উৎস থেকে। এ সব কিছু সদকায়ে জারিয়া। এগুলো মৃত্যুর পরেও আপনাকে পরকালের জন্য ধনী করতে থাকবে।

১৫. সন্তানদের উত্তম সন্তান হিসেবে গড়ে তুলুন। দ্বীন এবং মানবতা শিক্ষা দিন। তাদের দোয়া কবর পর্যন্ত পৌঁছাবে, আপনার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা তাদের সঠিক মানুষ হতে সাহায্য করবে।

১৬. এই সদকার পন্থাগুলো মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন, আলোচনা করুন; তাদের শিক্ষা দিন। এটিও সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

-Source: https://barta24.com


যে সব আমল সদকায়ে জারিয়া।।  Educational Video


Relaeted Other Islamic Blog

Other Blog-site: