Main Slogan:

হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর (সূরা বাকারা : ২০৮)
In the eyes of Islam লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
In the eyes of Islam লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

মুসলিম ফ্যাশন: বছরে হাজার কোটি টাকার বাজার


 বেশ ক'বছর ধরে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে মুসলিম ফ্যাশন নিয়ে। এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম মেয়েদের কিছুটা রক্ষণশীল পোশাক ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী।

এমনকি পশ্চিমের চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন ফ্যাশন উইকেও মুসলমান মেয়েদের পোশাকের সেসব নকশা পেয়েছে কদর।

বলা হচ্ছে, মুসলমান মেয়েদের ফ্যাশনেবল কাপড়চোপড় আর অনুষঙ্গের বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী, যা এতদিন হয়ত নজরেই আনেননি ডিজাইনার বা ব্যবসায়ীরা। একটা সময় পর্যন্ত ইসলামী অনুশাসন মেনে, একটু রক্ষণশীলভাবে কাপড়চোপড় পড়ার সঙ্গে ফ্যাশনের রীতিমত বৈরিতা ছিল বলে ধারণা করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, মুসলমান মেয়েদের ফ্যাশনেবল পোশাক আর আনুষঙ্গিকের পেছনে এখন বছরে খরচ হয় হাজার কোটি টাকা।

বহুজাতিক বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভির কর্মকর্তা শেলিনা জানমোহামেদ বলছেন, বিশ্বব্যাপী মুসলমান ভোক্তা ও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বছর বছর বাড়ছে। এ খাতে এখন মানুষ বছরে দুইশো কোটি মার্কিন ডলার থেকে পাঁচশো কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করছে। টাকার অংকে যা কয়েক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু মুসলিম ফ্যাশন বলতে আসলে ঠিক কি বোঝায়? সাধারণত কাপড়চোপড়ের মধ্যে শরীর ঢেকে একটু রক্ষণশীলভাবে পড়া জামা কাপড়, এবং মাথার চুল ঢেকে রাখার জন্য হিজাবকে ধরা হয়। এর মধ্যে ফুলস্লিভ অর্থাৎ লম্বা হাত-ওয়ালা এবং ঝুলেও একটু লম্বা গোছের জামা বা শার্ট রয়েছে।

শেলিনা বলছেন, এই বিশেষ ধরণের চাহিদার জন্য অনেকেই সাধারণ বাজার চলতি দোকান থেকে পছন্দসই পোশাক কিনতে পারেন না। বিশ্বের নামী সব ব্রান্ডগুলো এখন মুসলমান ক্রেতা আকৃষ্ট করতে নেমে পড়েছেন নতুন নতুন ধরণের আইডিয়া নিয়ে।  এতে করে সাধারণ মুসলমান নারীরা মনে করছেন প্রথমবারের মত ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে মুসলমান মেয়েদের বিবেচনায় আনা হয়েছে। একে সমাজের অংশ হয়ে ওঠার একটি প্রতীক হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

Source: https://www.bbc.com/bengali/

ইসলামিক পোশাক?-Mizanur Rahman Azhari

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২

ইসলামের দৃষ্টিতে সঞ্চয়


রাসুল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী যেভাবে সঞ্চয় করবেন

- মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

সম্পদ মানুষের জীবনের অনিবার্য প্রয়োজন। দ্বীনের ওপর চলার জন্য পার্থিব জীবনে অর্থেরও প্রয়োজন আছে। এই প্রয়োজন শুধু আমাদের এখনকার প্রাসঙ্গিকতা নয়; বরং আদিকাল থেকেই মানুষ উপার্জননির্ভর জীবনযাপন করছে।

আত্মমর্যাদার সঙ্গে সামাজিক জীবনযাপনের জন্য অর্থসম্পদকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সৎ ও আদর্শবান মানুষের জন্য কপর্দকশূন্য জীবনযাপন করা ও জীবন-জীবিকার অর্থনৈতিক ভার অন্যের ঘাড়ে চড়ানো বা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সমীচীন নয়। সন্তানদের ভিখারিবেশে রেখে যাওয়াও মান-মর্যাদার পরিপন্থী।

ইসলাম মানুষের এই প্রয়োজন ও আত্মমর্যাদাকে উপেক্ষা করেনি। হাদিসের ভাষ্য দেখুন, সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজের সময় সেই অসুখে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে এলেন, যে অসুখে আমি মৃত্যুর মুখে এসে দাঁড়াই। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার যন্ত্রণার অবস্থা আপনি দেখেছেন। আর আমি একজন সম্পদশালী মানুষ। আমার একমাত্র মেয়ে ছাড়া কোনো ওয়ারিশ নেই। আমি কি আমার দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ দান করে দেব? রাসুল (সা.) বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কি অর্ধেক সম্পদ দান করে দেব? বললেন, না। এক-তৃতীয়াংশ (দান করে দাও); আর এক-তৃতীয়াংশ অনেক। আর তুমি তোমার ওয়ারিশদের অসহায় এবং মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছে— এ অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে ধনী অবস্থায় রেখে যাওয়া ভালো। (মুসলিম, হাদিস : ১৬২৮; বুখারি, হাদিস : ১২৯৫)

হাদিসটিকে আমরা এ বিষয়ে মূলনীতির মর্যাদা দিতে পারি। এ হাদিসের শিক্ষা হলো, সম্পদ সঞ্চয় করা অবৈধ নয়। সন্তানের জন্য সঞ্চয় করে রেখে যাওয়াকে ইসলামও উৎসাহিত করেছে। উদারপ্রাণে সবকিছু বিলিয়ে দেওয়া, যাতে পরক্ষণেই অন্যের কাছে হাত পাততে হয়— তা কাম্য নয়।

রাসুল (সা.)-ও সম্পদ সঞ্চয় করেছেন বলে আমরা দেখতে পাই। উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বনু নজিরের খেজুর গাছ বিক্রি করে দিতেন, আর পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য রেখে দিতেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫৭)

এ সম্পর্কে আরেকটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। লাকিত ইবনে সাবুরা (রা.) বলেন, আমি বনু মুন্তাফিকের প্রতিনিধি কিংবা প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে রাসুল (সা.)- এর খেদমতে গিয়েছিলাম। যখন রাসুল (সা.) কাছে এলাম তাকে তখন ঘরে পেলাম না। ঘরে পেলাম উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে। তিনি আমাদের জন্য গোশত ও ছাতুর মিশ্রণে ‘খাজিরা’ নামক খাবার তৈরির আদেশ দিলেন। সেই খাবার রান্না হলো এবং আমাদের সামনে পাত্রে করে তা পরিবেশিত হলো। তারপর রাসুল (সা.) আগমন করলেন। আর বললেন, তোমরা খাবার কিছু কি পেয়েছ? যা কিছুর আদেশ করা হয়েছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসুল! আমরা পেয়েছি।

আমরা রাসুল (সা.)-এর দরবারে বসে আছি। এরই মধ্যে রাখাল তার ছাগলগুলো ছাগলশালার দিকে তাড়িয়ে নিয়ে এলো। আর তার সঙ্গে ছিল একটি ছাগলছানা ম্যাঁ ম্যাঁ করছিল। রাসুল (সা.) রাখালকে ডেকে বললেন, ওহে কী বাচ্চা দিলো? বলল, মেয়ে ছানা। নবীজি (সা.) বললেন, এর জায়গায় আমাদের জন্য একটি ছাগল জবাই করে ফেল। তারপর আমাকে বললেন, তুমি মনে করো না যে— আমরা তোমার জন্য ছাগল জবাই করেছি। আসলে আমাদের ১০০টি ছাগল রয়েছে। আমরা এর সংখ্যা আর বাড়াতে চাই না। তাই আমাদের রাখাল যখন একটি বাচ্চার খবর দেয়, আমরা সেটির জায়গায় একটি ছাগল জবাই করে ফেলি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৪২)

হাদিসটির মাধ্যমে জানা গেল, রাসুল (সা.) পরিবারের জীবিকার জন্য ১০০টি ছাগল পালতেন। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন রাখালও নির্দিষ্ট করা ছিল। সেকালের জীবনমানের হিসেবে হয়ত এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। কাজেই আজকের দিনের জীবনমানের বিবেচনায় উপার্জন ও সঞ্চয় করা দোষণীয় কিছু নয়। তবে স্বতঃসিদ্ধ কথা হলো, ইসলাম সম্পদের পাহাড় গড়তে অনুৎসাহিত করেছে। যা কামাই করব তা শুধুই সঞ্চয় করে রেখে দেব আর সম্পদের পাহাড় নির্মাণ করব— এটা ইসলামের দৃষ্টিতে চরম অপছন্দনীয়। কারণ, ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সঞ্চয়ের চেয়ে আখেরাতের সঞ্চয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইসলাম অকৃপণ হাতে খরচ করতে উৎসাহিত করেছে।

নবী-পরিবারের মহান মুখপাত্র উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর ব্ক্তব্যে পাওয়া যায়, নবী-জীবনের জীবনযাত্রার মান ও জীবিকার রূপ। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, অথচ একই দিনে জায়তুনের তেল দিয়ে পেট ভরে দুইবার রুটি খেয়ে যাননি। (মুসলিম, হাদিস : ২৯৭৪)।

নবীজির ক্ষুধা ও অর্থদৈন্যের কথা ফুটে উঠেছে ওমর ফারুক (রা.)-এর বাণীতে। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি— ক্ষুধায় বাঁকা হয়ে পুরো দিন পার করে দিচ্ছেন। উদরপূর্ণ করার মতো এক টুকরো খেজুরও তার ঘরে ছিল না।

লেখক : গবেষক, এমিরেটস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (ইসিএসএসআর)


ইসলামী অর্থনীতিতে সঞ্চয়

যুবায়ের আহমাদ

ইসলাম মানুষকে কথাবার্তা, হাঁটা-চলায় মধ্যম পন্থার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। উপার্জন-চিন্তায় ইবাদত বাদ দেওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি নামাজ সমাপনান্তে উপার্জন-চিন্তা বাদ দিয়ে মসজিদে বসে থাকাও নিষিদ্ধ। সম্পদ খরচের ক্ষেত্রে কৃপণ হওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি প্রাচুর্যের সময় অপচয়-অপব্যয় করে সম্পদ খরচ করাও নিষিদ্ধ।


পবিত্র কোরআনুল কারিমে অপচয় ত্যাগের কঠোর নির্দেশ জারি করে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আহার এবং পান করো, আর অপচয় কোরো না; আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩২) অর্থোপার্জন, খরচ ও সঞ্চয়ের ব্যাপারেও মধ্যম পন্থার নির্দেশ ইসলামের। মনে রাখতে হবে, সঞ্চয় করতে গিয়ে যেন কৃপণের তালিকায় নাম না উঠে যায়। অনেকে মনে করেন, জন্মদিন, মৃত্যুদিবস, বিবাহবার্ষিকী, ‘ভালোবাসা’ দিবসের মতো বিভিন্ন দিবস-বার্ষিকীতে প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে নির্বিচারে ধারদেনা করে হলেও টাকা উড়াতে পারাই ‘উদারতা’। ক্রমবর্ধমান এসব খরচের জোগান দিতে আনুষ্ঠানিকতায় তাল মেলাতে কালো টাকার পেছনে দৌড়ানো, চোরা পথ আবিষ্কার করাও যেন দোষের নয়! পক্ষান্তরে যিনি হালাল-হারাম, পাপ-পুণ্য, প্রয়োজন-অপ্রয়োজন বিবেচনা করে খরচ করেন এবং অপব্যয় ও অপচয় থেকে বিরত থাকেন, তাঁকে মনে করা হয় ‘কৃপণ’। আসলে স্ত্রী, সন্তানসন্ততির ভরণপোষণ, পিতা-মাতার সব চাহিদা পূরণের মতো আল্লাহ নির্দেশিত খাতে খরচ করতে অবহেলা করাই কৃপণতা। তাই হালাল-হারামের বিধিনিষেধ মেনে খরচকে সীমাবদ্ধ করে দিতে হবে। প্রাচুর্যের সময় খরচের উৎসবে মেতে না উঠে হারাম খরচ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করে উদ্বৃত্ত অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা উচিত। যেন পরবর্তী সময়ে নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছে হাত পাতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়। পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি (কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সঙ্গে বেঁধে রেখে একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না। আবার (অপব্যয়ী হয়ে) একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৯)

সন্তানদের জন্য কিছু সঞ্চয় করাও ইসলামের শিক্ষা। সন্তানদের কারো মুখাপেক্ষী রেখে যাওয়া নবীজি (সা.) কখনো পছন্দ করেননি। রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের মানুষের করুণার মুখাপেক্ষী রেখে যাওয়ার চেয়ে তাদের সচ্ছল রেখে যাওয়াই উত্তম। ’ (বুখারি : ১/৪৩৫; মুসলিম : ৩/১২৫১)

ইসলাম সঞ্চয়কে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হয় রাসুলে কারিম (সা.)-এর এক হাদিস থেকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘উত্তম দান তা-ই, যা নিজ অভাবমুক্ততা রক্ষার সঙ্গে হয়। ’ (বুখারি : ২/১১২) কারণ যদি সমুদয় সম্পত্তি দান করে দেওয়া হয়, তাহলে কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে তা মেটাবে কোত্থেকে?

কৃপণ না হয়ে মিতব্যয়ী হয়ে সঞ্চয় করলে হাজার কোটি টাকার মালিক হতেও ইসলাম বাধা দেবে না। মহান ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ধনী ছিলেন। ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও হেজাজজুড়ে বিস্তৃত এলাকায় রেশমি কাপড়ের বিশাল ব্যবসা ছিল তাঁর। তাই তো তিনি রাষ্ট্রীয় হাদিয়া-তোহফার পরোয়া না করে নিজ উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ, জ্ঞানের সেবা এবং গরিব শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতেন। সঞ্চিত অর্থ থাকলেই তো অর্থনির্ভর সওয়াবের কাজগুলো করা যাবে। রোজাদারকে ইফতার করানো যাবে। হাদিয়া আদান-প্রদান করা যাবে। শরিক হওয়া যাবে জনকল্যাণমূলক কাজে। অর্থ ব্যয় করে সদকায়ে জারিয়ার অফুরন্ত সাওয়াব হাসিল করা যাবে। আবার উদ্বৃত্ত অর্থ যখন নিসাব পরিমাণ হবে এবং তা বর্ষপূর্তি হবে, তখন জাকাতের মাধ্যমে সে সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ গরিবদের মধ্যে দান করে লাভ করবে। অর্থ সঞ্চয় করলেই তো বাইতুল্লাহর পবিত্র চত্বরে প্রেমের মিছিলে শরিক হয়ে হজ ও ওমরার মাধ্যমে গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা যাবে।

 লেখক : খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ

বোর্ড বাজার (আ. গনি রোড), গাজীপুর

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

গণতন্ত্র, সহিংসতা ও ইসলামের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয়

গণতন্ত্র, সহিংসতা ও ইসলামের দৃষ্টিতে আমাদের করণীয়
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
Written Date: 1/7/14 









    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সাথে এক সাক্ষাতে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে সহিংসতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ এটা সঠিক নয়। বর্তমান বিশ্বে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)-এর নেতা, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ ও শান্তিতে নোবেল জয়ী নেলসন ম্যান্ডেলা হলেন গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কঠোর দমননীতিতে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয় তখন নেলসন ম্যান্ডেলা সশস্ত্র অন্তর্ঘাতের পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তিনি আত্মগোপনে থেকে নানা সময় নানা ছদ্মবেশ ধারণ করে তাঁর সংগ্রাম পরিচালনা করেন। পরে তিনি গ্রেফতার হন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সংগ্রাম বিজয়ী হয়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আরেকটি দৃষ্টান্ত হল, আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম উৎপত্তিস্থল বৃটেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখে সশস্ত্র যুদ্ধ। ওলিভার ক্রমওয়েল ১৬৪৬ সালের ১৪ জুন সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে রাজা প্রথম চার্লসকে পরাজিত করেন এবং পরে মৃত্যুদন্ড দেন। আর বৃটেনে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম সাধারণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাঁর এই প্রচেষ্টা বৃটেনে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার উক্ত কথা একদিক থেকে ভুলই বলা যায়। প্রয়োজনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহিংসতা অনিবার্য পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। আমরা তন্ত্র-মন্ত্র বুঝি না, আমরা বুঝি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জুলুমের অবসান ঘটাতে হবে, অবিচার বিদায় করতে হবে, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, ইসলামের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী করতে হবে, সর্বোপরি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজনে ন্যায়সংগত যেকোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তবে সহিংসতা কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়। রাছূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন: “লা তামান্না লি কায়াল আদুয়্যি, সালুল্লাহাল আফিয়াতা, ফায়িজা লাকিতুমুহুম ফাছবির। ওয়ালামু আন্নাল জান্নাতা তাহতা জিলালিছ ছুয়ুফ” অর্থাৎ “শত্রুতা কামনা করো না, আল্লাহ্’র কাছে শান্তি-নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, তারপরও যদি যুদ্ধের সম্মুখিন হয়ে যাও তাহলে তাতে ধৈর্য-দৃঢ়তা অবলম্বন করো। জেনে রাখো, তরবারীর ছায়াতলেই বেহেস্ত” (সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ)। মহান আল্লাহ তা’লা বাংলাদেশের সকল ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতাকামী শক্তিকে সঠিক কর্ম-কৌশল গ্রহণের তৌফিক দান করুন এবং ঐ লক্ষ্যে পরিচালিত সকল সংগ্রামকে পূর্ণ সাফল্য দান করুন, আমীন।



বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০১৪

ধূমপান একটি অপরাধ : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

ধূমপান একটি অপরাধ : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

-লেখক : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান


আমরা সকলে জানি ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। কথাটা অনেকে সেচ্ছায় বলেন অনেকে বলেন বাধ্য হয়ে। যাই হোক ধুমপানের ক্ষতির তুলনায় শ্লোগানটা খুবই হাল্কা। কারণ ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, আত্মার জন্য ক্ষতিকর, স্বভাব-চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর, পরিবার-পরিজন প্রতিবেশী সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমার কাছে এর চেয়ে বড় ক্ষতির দিক হলো ধুমপানের মাধ্যমে ইসলামের নীতি আদর্শ লংঘন। আমি অনেক ধর্মপ্রান লোকজনকে দেখেছি তারা ধূমপান করেন। এমনকি বাংলাদেশের এক শহরের এক মসজিদে দেখেছি ইমাম সাহেব নামাজের ইমামতি শেষে মসজিদে বসেই সিগারেট ধরিয়ে পান করলেন । ঐ অঞ্চলের এক ইমাম সাহেবকে দেখেছি জুমার দিন মসজিদের মিম্বরে বসে বক্তৃতা দিচ্ছেন আর সিগারেট টানছেন। এ সকল ধর্মপ্রান মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের যখন আপনি বলবেন ধূমপান জায়েজ নয় তখন তারা তা মানতে চান না। অনেক যুক্তির সাথে তারা এ টাও বলেন মক্কা শরীফের মত পবিত্র স্থানেও ধূমপান করতে দেখেছি, যদি জায়েযই না হতো তা হলে কি ..। মুলত এদের উদ্দেশ্যেই আমার এ লেখা।

তারা বলেন : আল-কুরআনে তো বলা হয়নি ‘তোমরা ধূমপান করো না।’ হাদীসে রাসূলে কোথাও নেই যে, ‘ধূমপান করা যাবে না’, তা হলে ধূমপান ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ হলো কিভাবে?
এ প্রশ্নটির সন্তোষজনক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে এ প্রবেন্ধ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-

( وَيحُِلُّ لهَُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيحَُرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَْبَائِثَ. (الأعراف : ١٥٧
“তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দেন ভাল ও উত্তম বস্তু আর হারাম করে দেন খারাপ ও ক্ষতিকর বস্তু।” (সুরা আল-আরাফ : ১৫৭)

এ আয়াতের ভিত্তিতে এমমন বহু জিনিষ আছে যা হারাম হয়েছে অথচ তা কুরআন হাদীসে নাম ধরে বলা হয়নি। আমরা সাপ খাই না। কেন খাই না। কুরআন- হাদীসে কোথাও কি আছে তোমরা সাপ খেয়ো না ? নেই ঠিকই, কিন্তু উক্ত আয়াতের ভিত্তিতে তা হারাম হয়ে গেছে। কেননা তা ক্ষতিকর ও খারাপ। ধূমপান ক্ষতিকর ও খারাপ। এ ব্যাপারে দুনিয়ার সুস্থ বিবেক সম্পনড়ব সকল মানুষ একমত। কোন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী দ্বি-মত পোষণ করেননি। তারপরও যদি কেহ বলেন, ধূমপান শরীয়তের নিষিদ্ধ বস্তুর মধ্যে পড়ে না তা হলে তাকে ঐ ডায়াবেটিস রোগীর সাথে তুলনা করা যায় যিনি ডাক্তারের নির্দেশ মত চিনি ত্যাগ করলেন ঠিকই কিন্তু রসগোল্লা, চমচম, সন্দেশ সবই খেলেন আর বললেন কই ডাক্তার তো এ গুলো নিষেধ করেননি!
আল-কুরআনের আলোকে :


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :

( وَيحُِلُّ لهَُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيحَُرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَْبَائِثَ (الأعراف : ١٥٧

“তিনি তোমাদের জন্য পবিত্র ও ভাল (তাইয়েবাত) বস্তু হালাল করেন আর ক্ষতিকর- নোংড়া ( খাবায়িস) জিনিষ হারাম করেন। (সূরা আল-আরাফ :১৫৭)



আর ধূমপান নিশ্চয়ই খাবায়িস এর অন্তর্ভুক্ত, তাই তা পান করা বৈধ (হালাল) নয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

( وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ. (البقرة : ١٩٥
“তোমরা নিজেদের জীবন ধংশের সম্মুখীন করো না।” (সূরা আল-বাকারা : ১৯৫)

এ আয়াতের দাবীতেও ধূমপান নিষেধ। কেননা ধুমপানের কারনে অনেক জীবন বিধংসী রোগ ব্যধি হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাআলা মদ ও জুয়া হারাম করতে যেয়ে বলেন :

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الخَْمْرِ وَالمَْيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا.
( (البقرة : ٢١٩
“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, উভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর তার মধ্যে মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারের চেয়ে বড়।” (সূরা আল-বাকারা:২১৯)



আল্লাহ তাআলার এ বানী দ্বারা বুঝে আসে মদ জুয়ার মধ্যে উপকারিতা থাকা সত্বেও তা হারাম করেছেন। তাহলে ধূমপান তো মদ জুয়ার চেয়েও জঘন্য। কারন তাতে কোন ধরনের উপকার নেই। বরং একশ ভাগই ক্ষতি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামবাসীদের খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন :

لَا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِنْ جُوعٍ
“এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবে না ক্ষুধা ও নিবারণ করবে না।” (সূরা আল-গাশিয়াহ : ৭)

ধুমপানের মধ্যে এ বৈশিষ্ট্যই রয়েছে যে তা পান কারীর পুষ্টির যোগান দেয় না, ক্ষুধাও নেভায় না। ধুমপানের তুলনা জাহান্নামবাসীর খাবারের সাথেই করা যায়।


আল্লাহ তায়ালা বলেন:

إِنَّ المُْبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ

“তোমরা অপচয় করো না। অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সুরা আল-ইসরা :২৭)

ধূমপান একটি অপচয়। অনেক এমন অপচয় আছে যাতে মানুষের লাভ-ক্ষতি কিছু নেই। এগুলো সকলের কাছে অন্যায় ও সর্বসম্মতভাবে তা অপচয় বলে গণ্য। কিন্তু ধূমপান এমন একটি অপচয় যাতে শুধুই মানুষের ক্ষতি। কোন লাভই নেই।
হাদীসের আলোকে :


রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :

إن الله كره لكم ثلاثا : قيل وقال وكثرة السؤال وإضاعة المال.

“আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের তিনটি বিষয় ঘৃণা করেন।

  1. ভিত্তিহীন ও সনদ-সুত্র বিহীন কথা-বার্তা।
  2. অধিকহারে প্রশ্ন করা।
  3. সম্পদ নষ্ট করা।” (বুখারী ও মুসলিম)
ধূমপানকারী ধূমপান করে সম্পদ নষ্ট করে এ ব্যাপারে কারো দ্বি-মত নেই।


রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :

من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذي جاره

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।”
(বুখারী)



ধূমপানকারী তার ধুমপানের দ্বারা স্ত্রী-পরিজন, সহযাত্রী, বন্ধু – বান্ধব ও আশে-পার্শের লোকজনকে কষ্ট দিয়ে থাকে। অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে ধূমপান কারীকে অভিশাপ দেন। আবার দু একজন প্রতিবাদ করে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যান। আমি বাসে ও ট্রেনে বসে অনেক ধূমপানকারীকে আদবের সাথে বলেছি ভাই সিগারেটটা শেষ করুন। আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এতে তিনি আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়ে বকাবকি করেছেন, আমাকে একটা গাড়ী বা ট্রেন কিনে তাতে আলাদা ভাবে চলাফেরা করার হুকুম দিয়েছেন। আবার এও বলেছেন “মনে হয় গাড়ীটা উনি কিনেই নিয়েছেন”

চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় ও প্রমানিত ধূমপানকারীর প্রতিবেশী শারিরিকভাবে অনুরূপ ক্ষতিগ্রস্থ হন যে রূপ ধূমপানকারী হয়ে থাকেন।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :
“হালাল স্পষ্ট, এবং হারাম স্পষ্ট। এ দুয়ের মাঝে আছে সন্দেহ জনক বিষয়াবলী। (তা হালাল না হারাম ) অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি এ সন্দেহ জনক বিষয়গুলো পরিহার করল, সে তার ধর্ম ও স্বাস্থ্য রক্ষা করল। আর যে এ সন্দেহ জনক বিষয়গুলোতে লিপ্ত হল সে প্রকারান্তরে হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ল .. .. (বুখারী ও মুসলিম)


তাই যারা ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়ার কোন প্রমাণাদি পাচ্ছেন না তাদের কমপক্ষে এ হাদীসটির প্রতি দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه
“যে সকল কথা ও কাজ মানূষের কোন উপকারে আসে না, তা পরিহার করা তার ইসলামের সৌন্দর্য।” (মুসলিম)

আমরা সকলেই স্বীকার করি যে ধূমপান কোন উপকারে আসে না। বরং ক্ষতিই করে।

বাস্তবতার আলোকে :


কোন পাক ঘরে যদি জানালায় কাচ থাকে অথবা বাল্ব থাকে তাহলে দেখা যায় ধোঁয়ার কারনে তাতে ধীরে ধীরে কালো আবরন পড়ে। এমনি ভাবে ধূমপান কারীর দাতে , মুখে ও ফুসফুসে কালো আবরন তৈরী হয়। কাচের আবরন পরিস্কার করা গেলেও ফুসফুসেরকালিমা পরিস্কার করা সম্ভব হয় না। ফলে তাকে অনেক রোগ ব্যধির শিকার হতে হয়।
একজন অধুমপায়ী ব্যক্তির চেয়ে একজন ধুমপায়ী অধিকতর উগ্র মেজাজের হয়ে থাকেন। সমাজে যারা বিভিনড়ব অপরাধ করে বেড়ায় তাদের ৯৮% ভাগ ধূমপান করে থাকে। যারা মাদক দ্রব্য সেবন করে তাদের ৯৫% ভাগ প্র মে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়েছে তারপর মাদক সেবন শুরু করেছে। এমনকি ধুমপায়ী মায়ের সন্তান উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে ( সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব তারিখ ১৫-১২-২০০০ ইং)
সম্প্রতি উইনকনসিন বিশ্ব বিদ্যালয়ে ৩৭৫০ জন লোকের উপর এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে অধুমপায়ীদের চেয়ে ধুমপায়ীদের শ্রবন শক্তি কমার সম্ভাবনা শতকরা ৭০ ভাগ বেশী থাকে। গবেষকরা আরো দেখেছেন যে, একজন ধুমপায়ীর ধূমপানকালীন সময়ে কোন অধুমপায়ী উপস্থিত থাকলে তারও একই সমস্যা দেখা দেবে।
(সুত্র : সাপ্তাহিক আরাফাত বর্ষ ৪৫ সংখ্যা ১, ১৮ই আগস্ট ২০০৩)
তাই আসূন সকলে মিলে আমরা আমাদের সমাজকে ধূমপান মুক্ত করার চেষ্টা করি।

Related Link:
ধূমপানের কুফল ও প্রতিকার
পরোক্ষ ধূমপানের কুফল
পরোক্ষ ধূমপানের কুফল

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩

মেহেদি অনুষ্ঠান একটি কুসংস্কার


মেহেদি অনুষ্ঠান একটি কুসংস্কার

-মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে মেহেদি অনুষ্ঠানের জমজমাট আয়োজন ছাড়া বিবাহ-শাদির চিন্তাও করা যায় না। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিরাট পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্ত্ততি গ্রহণ করা হয়। খরচের হিসাবও গুণতে হয় লম্বা-চওড়া। এই অনুষ্ঠান ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠান যেন পানসে হয়ে যায়। বিয়ের মূল পর্ব থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে মেহেদি অনুষ্ঠানকে। সাধারণত বিবাহপূর্ব রাতে এই মেহেদি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বরপক্ষ প্রস্ত্তত মেহেদি পাত্র নিয়ে মহা ধূমধামে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়। এই অনুষ্ঠানে থাকে নিম্নে বর্ণিত কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনা।
দামি পাত্রে অত্যন্ত যত্ন সহকারে মেহেদি সাজানো হয়। এই পাত্র নিয়ে বর ও কনে পক্ষ পরস্পরের ঘরে গমন করে। বর পক্ষের রমণীরা কনের ঘরে গিয়ে কনের হাতে মেহেদি রং করে দিয়ে আসে। অনুরূপ কনে পক্ষও বরকে তাই করে। উভয় পক্ষের বাড়িতে অত্যন্ত রুচিপূর্ণ দামি খাবারের আয়োজন করা হয়। অতঃপর ধূম-ধাড়াক্কা নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকে। যুগলবন্দী যুবক-যুবতীরা নাচ গানে অংশগ্রহণ করে। বেহায়াপনা বেলেল্লপনার নির্লজ্জ প্রদর্শনী হয়। পর পুরুষ অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে সেই নাচ-গান উপভোগ করে। ফটকা, আতশবাজি, তারাবাতি ইত্যাদি জমকালো পর্বের আয়োজন করা হয়। তথাকথিত মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে কল্যাণও প্রত্যাশা করা হয়। হাতে লাগানো হয় রাখিবন্ধন ইত্যাদি। এক মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আলো-অাঁধারিতে অষোঘিত ও অপ্রকাশিতভাবে অনেক মা-বোনের সম্ভ্রম হানি হয়। মোদ্দাকথা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর নিষেধ করা সব অপকর্ম এই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে হতে থাকে।
এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে অপব্যয়ের এক মহোউৎসবে পরিণত হয়। এই কুসংস্কার অন্য মানুষকেও অপব্যয়ে উদ্বুদ্ধ করে। এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’য়ালা ইরশাদ করেন- (অর্থ:) ‘আত্মীয়-স্বজনকে তার হক দান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (বনী ইসরাঈল- ৬-২৭)
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে বিকট শব্দের গান-বাজনা, নৃত্য, ব্যন্ডশো ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়তের আলোকে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ্ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘‘এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহ্র পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (লোকমান- ৬)
আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহ.) আলোচ্য আয়াতের তাফসীরে বলেন, ‘হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা.) তিনবার কসম করে বলেছেন, ‘লাহওয়াল হাদীস’- দ্বারা গান-বাজনাই উদ্দেশ্য। হযরত ইবনে আববাস (রা.), হযরত জাবের (রা.), হযরত ইকরামা (রা.) এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রা.) উল্লেখিত আয়াতের অনুরূপ তাফসীর করেছেন।
মেহেদি অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে নৃত্য। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীর অশ্লীল নির্লজ্জ নাচ দর্শক-শ্রোতাদের উত্তেজিত করে, মোহিত করে। ফলে ইভটিজিংসহ নানা ধরনের মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। মানুষ উত্তেজনায় অস্থির হয়ে নারীদের শ্লীলতাহানির মত ঘটনাও ঘটিয়ে বসে।
মেহেদি অনুষ্ঠানে এমন সব অনৈসলামিক কার্যকলাপ করা হয় যার দ্বারা ঈমান শূন্য হয়ে যায়। ঈমান তাদের আল-বিদা দিয়ে চলে যায়। কেননা, এই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিগণ উক্ত পাপকে পাপ মনে করে না। বরং কৃত পাপকে অহংকার, গর্ব এবং আনন্দকর বিষয় হিসেবে বিশ্বাস করে। আর এমন বিশ্বাস তার ঈমানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সা.) কর্তৃক হারামকৃত কাজকে হালাল বিশ্বাস করলে তার ঈমান অটুট থাকে না।
এই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে নির্লজ্জতার মহড়া হয়। পর্দাহীনতা চরম আকার ধারণ করে। নারী-পুরুষ একাকার হয়ে যায়। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।
অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। আতশবাজি, ফটকা, বিজলি বাতি ইত্যাদির বিশেষ আয়োজন করা হয়। যা অপচয় এবং অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন-সুন্নাহ্র দৃষ্টিতে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বর্জনীয়। আল্লাহ্ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘এবং তারা যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী।’
(আল ফুরকান- ৬৭)
এই মেহেদি অনুষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে হিন্দুদের প্রচলনকৃত কুসংস্কার এবং এটা তাদের ঘোষিত সংস্কৃতি। যার অনুসরণ ও পালন করাই পাপ।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ কোনো মুসলমানের আত্মসম্মান কি হিন্দু সংস্কৃতি গ্রহণ করে নিজেকে তাদেরই একজন হিসেবে সাব্যস্ত করার অনুমতি দিতে পারে? না, কখনোই না। প্রকৃত মুসলমানের দ্বারা এটা অসম্ভব।
হ্যাঁ, একথা সত্য ও নির্ভুল যে, নারীরা নব বধুকে মেহেদি লাগাতে পারে। সখীরা তাকে নিয়ে বিয়ের গান গাইতে পারে। দেশ জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী নির্মল আনন্দ করতে পারে, এতে কোনো বাধা, প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু এর জন্য রীতিমতো অনুষ্ঠান করে ইসলামী শরীয়াবিরোধী কার্যকলাপের জোয়ার বইয়ে দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অতএব আসুন, আমরা এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ করি, বর্জন করি। মা-বোনেরা, আসুন এর প্রতিবাদ করি। এ ধরনের অনুষ্ঠান বর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। নিজেরা বাঁচি, অন্যকে বাঁচানোর চেষ্টা করি।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া, লালবাগ, ঢাকা।

Relaeted Other Islamic Blog

Other Blog-site: