Main Slogan:

হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর (সূরা বাকারা : ২০৮)
হজ্ব ও হাজী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হজ্ব ও হাজী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১০

হজ্ব থেকে ফিরে হাজীদের জন্য করণীয়

হজ্ব থেকে ফিরে হাজীদের জন্য করণীয়
-ড. মুহা বিলাল হুসাইন

আলস্নাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও ওহীর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত: হাজী সাহেবানরা ইহরামের সময় সাদা সেলাই বিহীন দু'টুকরো কাপড় পরিধান এক দিকে অহংবোধ দূর করে অপরদিকে মৃতু্যর সময়ের কাফন পরার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁরা এক আলস্নাহর কাছে আত্মসর্পণ, আলস্নাহর আইন ছাড়া কারো আইন মেনে চলবে না, আলস্নাহর সার্বভৌমত্বের বুনিয়াদে সমগ্র জীবনধারা পরিচালনা করবে বলে শপথ গ্রহণ করে। বিধায় হজ্ব থেকে ফিরে এসে এ ধারাগুলো খেয়াল রাখতে হবে।

বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব শিক্ষা: বিশ্ব মুসলিম হজ্ব সম্মেলন হতে গোটা মুসলমান জাতি ও আপনার দেশের উন্নতি সাধন এবং ইসলামকে জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের কোন পরিকল্পনা ও কর্মসূচী গ্রহণ করে এনে থাকলে তদনুযায়ী অবশ্যই কাজ করবেন। একাকী বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবেন না বরং মুসলমানদের সাথে সংঘবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করবেন। বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানব ঐক্য ও অবিচ্ছেদ সংহতির যে মহান শিক্ষা হজ্জ থেকে নিয়ে এসেছেন তা বাস্তবায়নের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করবেন।

হজ্ব ত্যাগ-তিতিক্ষার আদর্শ: হজ্বের পবিত্র অনুষ্ঠান আলস্নাহর রাহে উৎসর্গকৃত প্রমাণের অধিকারী মুসলিম উম্মাহর মধ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.), ইসমাইল (আ.) ও হাজেরা (আ.) এর ত্যাগ-তিতিক্ষা, শ্রম, কুরবানি, আত্মসমর্পণ ও অগি্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সুমহান ঐতিহ্য হূদয়-মনকে অনুপ্রাণিত করে তোলে। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার শিক্ষণীয় ঘটনাবলী মুসলিম মন-মানসকে অভিভূত করে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও প্রেরণাকে জাগ্রত করে তোলে এবং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করবেন।

হজ্বের শিক্ষা ভুলে না যাওয়া: হজ্ব হতে প্রত্যাবর্তনের পর বায়তুলস্নাহ শরীফ ও রওযা মুবারক যিয়ারতের যে নিয়ামত আলস্নাহ আপনাকে দান করেছেন তা ভুলে না যাওয়া এবং উদাসীন হয়ে ক্রীড়াকৌতুক, খেল-তামাশা ও পাপ কার্যে লিপ্ত হয়ে অকৃতজ্ঞ না হওয়া। কারণ মাকবুল হজ্বের নিদর্শন হলো- হজ্ব থেকে ফিরে এসে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং আখিরাতের জন্য অধিক উদগ্রীব হয়ে উঠা।

দুনিয়াবী আচরণের সাথে মিশে না যাওয়া: হজ্ব করে এসে যার তার কাছে তা বেহুদা বর্ণনা করে বেড়াবেন না। তাতে মনে রিয়া ও অহংকার জেগে উঠতে পারে। হজ্বে যে টাকা পয়সা ব্যয় হয়েছে তা উলেস্নখ করে আফসোস ও অহেতুক গল্প করবেন না। হজ্বে যে কষ্ট তকলীফ হয়েছে তা বর্ণনা করবেন না।

এসব কাজে হজ্বের সওয়াব বিনষ্ট হয়। বরং অত্যন্ত পরহেযগারীর সাথে বাকি যিন্দেগী অতিবাহিত করবেন। হজ্ব করে এসে অনেকে আবার হালাল কাজ কারবারও করতে চায় না। হালাল করতে গিয়ে হারামে পা রাখবেন না। এদিকে খেয়াল রেখে কাজ করতে হবে।

পুনরায় তাগুতের অনুস্মরণ না করা: মুসলমান সর্বক্ষেত্রেই মুসলমান। তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রেই একমাত্র আলস্নাহর দাসত্ব করবেন, অপর কারো নয়। কা'বা শরীফ, মসজিদ ও নিজ গৃহে আলস্নাহর আইন মেনে চলা এবং বহির্বাড়িতে, কাজ ও কারবারে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবরচিত আইন-কানুন মেনে চলা মুসলমানদের নিদর্শন নয়। বরং সর্বক্ষেত্রে একমাত্র আলস্নাহতায়ালার দেয়া আইন-কানুন মেনে নেয়াই হলো হজ্বের শিক্ষা। এই শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন।

দুনিয়ার নানাবিধ অন্যায় কাজের সাথে নিজেকে জড়িত না করা: কাবাঘর যিয়ারতের মাধ্যমে নিজেকে যে নিষ্পাপে পরিণত করলেন হজ্ব থেকে ফিরে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সুদ ঘুষের সাথে নিজেকে জড়িত করা যাবে না, হারাম খাওয়া যাবে না, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ দখল করা যাবে না, ইয়াতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা যাবে না, হজ্বে যাওয়ার আগে কোন অন্যায় কাজের সাথে জড়িত থাকলে ফিরে এসে পুনরায় তার সাথে জড়িত হওয়া যাবে না। নিজেকে আলস্নাহর রাস্তায় সঁপে দিতে হবে। নিজের জীবন ও সম্পদ আলস্নাহর রাস্তায় ব্যয় করতে হবে। অহংকার পরিত্যাগ করে আলস্নাহর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় হজ্ব থেকে ফিরে এসে হাজী সাহেবানদের দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। যে শিক্ষা নিয়ে হজ্ব থেকে ফিরে এসেছেন তা বাস্তবায়ন করার জন্য নিজের মনকে নিয়োজিত করবেন। আখিরাতের চিন্তা সর্বদা মনে জাগ্রত রেখেই তিনি গোটা জীবন অতিবাহিত করবেন এবং পার্থিব কাজের মোকাবিলায় পারলৌকিক কাজের প্রাধান্য দিবেন।

কারণ পার্থিব জীবনের আরম্ভ আছে এবং শেষও আছে। কিন্তু পারলৌকিক জীবনের আরম্ভ আছে, শেষ নেই। সুতরাং কেউ তার ক্ষণস্থায়ী যিন্দেগীর জন্য অনন্তকালের যিন্দেগী বরবাদ করতে পারে না।

শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০১০

হাজীদের সাহায্য করবে প্রযুক্তি

হাজীদের সাহায্য করবে প্রযুক্তি

-মনিরুল হক ফিরোজ

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ বছর হজের সব তথ্য পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সরকারের হজ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট প্রত্যেক হাজির তথ্য প্রদান করবে। সাইটটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান মিতুল জানিয়েছেন, এ বছর প্রত্যেক হাজীর তাত্ক্ষণিক ভবন আপডেট করার জন্য মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় আলাদা আইটি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। সেখানকার কর্মীরা প্রত্যেক হাজীর তথ্য সংগ্রহ এবং তাত্ক্ষণিক সেগুলো ওয়েবসাইটে আপডেট করার কাজটি সম্পন্ন করবেন। হাজী সেখানে কখন কোন অবস্থায় রয়েছেন, কখন কোন শহরে যাচ্ছেন, তার সুস্থতা-অসুস্থতা এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যদের তথ্যও পাওয়া যাবে।
যেভাবে তথ্য মিলবে
প্রথমে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল www.hajj.gov.bd-এ ঢুকে সাইটটির ওপর Pilgrim Search নামে একটি বক্স পাওয়া যাবে। এতে হাজীর পাসপোর্ট নাম্বার অথবা পিলগ্রিম নাম্বার লিখে এন্টার চাপলে তার একটি প্রোফাইল আসবে। প্রোফাইলটিতে 'Pilgrim Info', 'Moyallem and Agent info', 'Groups and Unit info', 'Visa, Flight and House info' এবং 'Status and Message' নামে আলাদা অপশন রয়েছে। Pilgrim Info অপশনটিতে মিলবে হাজীর আইডি নাম্বার, পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম-ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি। Moyallem and Agent info বিভাগে পাওয়া যাবে সৌদি আরবে তিনি কার তত্ত্বাবধানে থাকছেন এবং কোন এজেন্টের মাধ্যমে গেছেন। যে এজেন্সির মাধ্যমে হাজী সৌদিতে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বাংলাদেশী ও সৌদি আরবের ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার। Group and Unit info অপশনে পাওয়া যাবে হাজী কোন দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং সৌদিতে কার নেতৃত্বে তিনি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে যাবেন। ওই হাজীর দলে আর কে কে রয়েছেন সে তালিকাও দেখা যাবে। এজন্য Groups and Unit info অপশনের নিচে ডান পাশে Load Group Pilgrim লেখা বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে দলের অন্য সদস্যদের তথ্যাদি পাওয়া যাবে। View বাটনে ক্লিক করলে ওই হাজীর প্রোফাইলও ব্রাউজারে পপআপ করে দেখানো হবে। এরপরই রয়েছে Visa, Flight and House info অপশনটি। এতে হাজীর ভিসা স্ট্যাটাস, ফ্লাইট তারিখ, তিনি প্রকৃতপক্ষে কখন বাংলাদেশ থেকে সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করেছেন, মক্কা ও মদিনায় তিনি কোথায় থাকবেন সে সম্পর্কিত সব তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর পেজটির সর্বশেষ অপশন Status and Messages লেখায় ক্লিক করলে হাজীর সর্বশেষ আপডেট পাওয়া যাবে। তিনি কখন কোন অবস্থায় রয়েছেন, এ অপশনটির মাধ্যমেই মূলত জানা যাবে। যখন কোনো হাজী বাংলাদেশ থেকে সৌদির উদ্দেশে রওনা করবেন তখন এয়ারপোর্টের আশকোনা হজ ক্যাম্পের আইটি হেল্প ডেস্কের কর্মীরা ওই হাজীর প্রোফাইল আপডেট করে দেবেন। ওই ব্যক্তির স্ট্যাটাসে তখন ‘তিনি Oct 09 তারিখে B-1301 ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন’ ধরনের একটি বার্তা যুক্ত হয়ে যাবে। আবার যখন তিনি সৌদিতে পৌঁছে যাবেন তখন বিমানবন্দর থেকে আইটি কর্মীরা তার স্ট্যাটাস আপডেট করে দেবেন। একইভাবে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় প্রতিটি হেল্প ডেস্কই হাজীর তথ্য প্রতিনিয়ত আপডেট করবে। কেউ অসুস্থ হলে তার তা যেমন আপডেট করা হবে, সুস্থ আছেন—এ তথ্যও পাওয়া যাবে নিয়মিত। একইভাবে কেউ যদি মারা যান তত্ক্ষণাত্ তার স্ট্যাটাসে ‘ডেড রিপোর্ট’ যুক্ত করে দেয়া হবে।
হাজীকে খুঁজে পেতে ‘অ্যাডভান্স সার্চ’
ডেটাবেজ থেকে সহজে তথ্য খুঁজে বের করার জন্য ‘অ্যাডভান্স সার্চ’ অপশন যুক্ত করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের ওপর বাম পাশে পিলগ্রিম সার্চ অপশনের নিচে Advance Pilgrim Search ক্লিক করতে হবে। এখানে নাম, পিতা/স্বামীর নাম, জেলা, উপজেলা, এজেন্ট এবং বয়সসহ বিভিন্ন রকম ফিল্টার ব্যবহার করে ওই হাজী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে এবং তিনি সর্বশেষ কোথায় আছেন তাও জানা যাবে।
হজসেবায় মোবাইল
হজ উপলক্ষে বিভিন্ন সেবা চালু করেছে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটররা। নির্দিষ্ট নাম্বারে ডায়াল করে হজের বিভিন্ন তথ্য, পরামর্শ, ফ্লাইটের সময় ইত্যাদি জানার সুযোগ রয়েছে। সিটিসেল ব্যবহারকারীরা ১৪১২ নাম্বারে ডায়াল করে জেনে নিতে পারবেন হজ সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য। মোবাইল ফোন অপারেটর রবিও একই ধরনের সেবা চালু করেছে। ৮০৮০৭ নাম্বারে ডায়াল করে হজের তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি বার্তা আকারেও বিভিন্ন সেবা পেতে পারেন রবি গ্রাহকরা। এছাড়া হজের তাত্পর্য ও নিয়মাবলি সম্পর্কিত হাদিস অ্যালার্ট পেতে ব্যবহারকারীরা ডায়াল করতে পারেন *১৪০*৮*১১# নাম্বারে। গ্রামীণফোন ২২০০ নাম্বারে ডায়াল করে বিভিন্ন সেবা পাবেন। হজযাত্রীরা দেশে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নিতে পারেন। বর্তমান নাম্বারটিই সেখানে ব্যবহার করতে চাইলে এটিতে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু করে নিতে হবে। দেশে একাধিক মোবাইল ফোন অপারেটর আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা দিচ্ছে এবার। বাংলালিংক পোস্টপেইড গ্রাহকরাও আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা পাবেন। এজন্য ব্যবহারকারীর ক্রেডিট কার্ডে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স থাকতে হবে। তবে আলাদা করে কোনো ডিপোজিট অর্থ জমা রাখতে হবে না। ওয়ারিদ পোস্টপেইড গ্রাহকরাও একই শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু করে নিতে পারবেন। ওয়ারিদে ডিপোজিট করতে হবে ১০ হাজার টাকা। তবে হ্যান্ডসেট সঙ্গে নিয়ে সৌদি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কিনেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারেন। হজের এ সময়টায় বিভিন্ন সৌদি অপারেটর হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ সিম বাজারে ছাড়ে।

হজ্ব ও আপনার স্বাস্থ্য : যা জানা দরকার

হজ্ব ও আপনার স্বাস্থ্য : যা জানা দরকার

-ডা. এ কে এম শাহিদুর রহমান


বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালন করতে সৌদি আরবে যাবেন। সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ মুসলমান হজব্রত পালন করতে মক্কায় সমবেত হবেন। এ সময়ে হাজীদের সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ক্লান্তি, আবহাওয়ার তারতম্য, পরিবেশগত ভিন্নতা, অসংখ্য মানুষের ভিড়, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অধিক শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি নানা কারণে হাজীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আমাদের দেশের হজ ক্যাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। অন্যদিকে সৌদি সরকারও হাজীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তারপরও হাজীরা সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথাব্যথা, পেটের পীড়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগে থাকেন। হাজীদের তেমনি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার কথা আলোচনা করা হলো।

দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ক্লান্তি : দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে হাজীরা ক্লান্ত হযে পড়েন। শরীর অবসন্ন হয়ে নেতিয়ে পড়ে। তাই ভ্রমণের পরপরই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবেন। প্রচুর পানি খাবেন। প্রয়োজনে স্যালাইনের পানি খাওয়া যেতে পারে। মাথাব্যথা কিংবা শরীর ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে হবে।

বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া : ভ্রমণজনিত কারণে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য এ সময় বেশি বেশি ভ্রমণ করতে হয়। এছাড়া যাদের ভ্রমণজনিত বমি ভাব বা ‘মোশন সিকনেস’-এর সমস্যা রয়েছে তাদের বমি হতেই পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভ্রমণ শুরুর আধা ঘণ্টা আগে বমি কমার ওষুধ ট্যাবলেট মেক্লিজিন (এক্লিজ/ভারটিনা) ১টি ট্যাবলেট খালি পেটে খেতে হবে। প্রয়োজনে এই ট্যাবলেটটি ৮ ঘণ্টা পরপর, দিনে ৩ বার খাওয়া যেতে পারে।

হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া : আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই সাধারণত হাঁচি-কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ে থাকে। একই সঙ্গে মাথাব্যথাও থাকে। এজন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের সঙ্গে এন্টি হিস্টাসিন (ফেনাডিন) ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে।

বুক জ্বলা : গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণে বুক জ্বলার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। হজের ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ, অত্যধিক দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেয়া, অনিদ্রা ইত্যাদি নানা কারণে এই বুক জ্বলার প্রকোপ আরও বেড়ে যেতে পারে। এজন্য সময়মত খাবার গ্রহণ করুন, তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, প্রচুর পানি পান করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে ওমিপ্রাজল ক্যাপসুল (লোসেকটিল ২০ মি. গ্রা./সেকলো ২০ মি. গ্রা.) দিনে ২ বার খালি পেটে খেতে পারেন। এছাড়া রেনিটিডিন, পেল্টোপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল ইত্যাদি গ্রুপের ওষুধও খাওয়া যেতে পারে।

জ্বর : জ্বর বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ভাইরাসজনিত জ্বরে কোনো এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ৬ ঘণ্টা পরপর ভরা পেটে খেতে হবে। সঙ্গে বেশি বেশি তরল খাবার খেতে হবে। তবে জ্বরের সঙ্গে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি ইত্যাদি থাকলে এন্টিবায়োটিক শুরু করতে হবে। এজন্য এজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট (জিথ্রিন ৫০০ মিগ্রা/জি-ম্যাক্স ৩০০ মিগ্রা) প্রতিদিন ১টি করে ৩ থেকে ৫ দিন খেতে হবে।

ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া : এ সময়ে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, পেটের ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সঙ্গে জ্বর, শরীর ব্যথা ইত্যাদিও থাকতে পারে। এজন্য বেশি বেশি তরল খাবার ও খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ট্যাবলেট (সিপ্রোসিন/ফ্লনটিন ৫০০ মি. গ্রাম) ১টি করে দিনে ২ বার ৫ থেকে ৭ দিন খেতে হবে।

গরমজনিত শারীরিক অসাড়তা এবং হিটস্ট্রোক : এ সময়ে মক্কার গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই গরমে হজের নানা আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য প্রখর রোদে ব্যস্ত থাকতে হয়, প্রচুর ছোটাছুটি করতে হয়। এতে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে নেতিয়ে পড়ে। এ অবস্থা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে এক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন অথবা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এর জন্য ছাতা ব্যবহার করুন, প্রচুর পানি পান করুন, খাবার স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি বেশি গ্রহণ করুন।

শারীরিক দুর্বলতা ও অবসাদ : হজ পালনের সময় সুষম খাবারের ঘাটতি, অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে শারীরিক দুর্বলতা ও অবসাদ ভাব দেখা দিতে পারে। এর জন্য ঘন ঘন খাদ্য গ্রহণ, প্রচুর পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। প্রয়োজনে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট (এরিস্টোভিটএম/মাল্টিভিট-প্লাস) ১টি ট্যাব দিনে ২ বার খেতে পারেন।

অনিদ্রা : পরিবেশগত, আবহাওয়া ও ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন এবং অত্যধিক দুশ্চিন্তা হাজীদের অনিদ্রার কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সক্রিয় ও মনোযোগী হওয়া যায় না। তাই আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে যখনই সুযোগ হবে ঘুমিয়ে নেবেন। কোনো কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এবং অত্যধিক দুশ্চিন্তা হলে ব্রোমাজিপাম ট্যাবলেট (বোপাম) টেনিল-৩ মি. গ্রা.) ১টি ট্যাবলেট দিনে ১ বার, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেতে পারেন।

পরিশেষে : যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন এবং হজে যাচ্ছেন তারা অবশ্যই সচেতন থাকবেন। কারণ এ সময়ে নানা কারণে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সঙ্গে রাখুন। শত ব্যস্ততায়ও ওষুধ সেবনের কথা ভুলবেন না। নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন এবং অবশ্যই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। যে কোনো প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।
সবাই সুস্থ থাকুন, সুস্থভাবে হজ পালন করুন এবং হজ শেষে সুস্থভাবে প্রিয়জনদের মাঝে ফিরে আসুন—এই প্রত্যাশাই করছি।

প্রয়োজনীয় যেসব ওষুধ সঙ্গে রাখবেন

যারা দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগ যেমন—উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ইত্যাদিতে ভুগছেন, তারা অবশ্যই সেসব রোগের ওষুধ বেশি পরিমাণে সঙ্গে রাখবেন। এছাড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ না থাকলেও নিচের ওষুধগুলো যথেষ্ট পরিমাণে হজে যাওয়ার সময় সঙ্গে রাখবেন—
—গজ ব্যান্ডেজ ও তুলো
—সেভলন ক্রিম/ডেটলের ছোট বোতল
—খাবার স্যালাইন
—প্যারাসিটামল ৫০০ মি. গ্রা. ট্যাবলেট
—ওমিপ্রাজল ক্যাপসুল (লোমেকটিল ২০ মি. গ্রা.)
—ব্রোমাজিপাম ট্যাবলেট ৩ মি. গ্রা.
(বোপাম-৩ মি. গ্রা)
—মেক্লিজিন ট্যাবলেট (এক্লিজ/ভারটিনা ৫০ মি. গ্রা.)
—ট্যাবলেট ফেক্সোফেনাডিন ১২০ মি. গ্রা. (ফেনাডিন ১২০ মি. গ্রা.)
—ট্যাবলেট সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মি. গ্রা. (সিপ্রোসিন ৫০০ মি. গ্রা)
—ট্যাবলেট এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি. গ্রা. (জিথ্রিন ৫০০ মি. গ্রা.)
—নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে
—ভেনটোলিন ইনহেলার
—মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট (এরিস্টোভিট-এম/মাল্টিভিট প্লাস)
—উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এবং
—ইনসুলিন/ডায়াবেটিসের ওষুধ।

লেখক
: মেডিক্যাল অফিসার
কিডনি রোগ বিভাগ
বিএসএমএমইউ, শাহবাগ, ঢাকা।
ইমেইল: dr.shahidurrahman@yahoo.com

হ জে যা বে ন : জেনে নিন জরুরি নিয়ম কানুন

-মাওলানা মোঃ আবুল হোসেন পাটওয়ারী


হজ ইসলামের ৫টি স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য রোকন। এটি একটি ফরজ ইবাদত। পৃথিবীর প্রাচীনতম ইবাদতের স্থান এবং বিশ্ব মুসলিমের মহা মিলন কেন্দ্রস্থল পবিত্র কা’বা শরীফ। হজ ও পবিত্র কাবা শরীফ বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের প্রতীক। হজ শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ইবাদত এবং ত্যাগের সমন্বয়।হজ আরবি শব্দ, অর্থ ইচ্ছা করা, সংকল্প করা, নিয়ত করা ইত্যাদি। কোনো সম্মানিত স্থানে গমনের ইচ্ছা করা। পরিভাষায় আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুনসহ বিশেষ অনুষ্ঠান পালন বা উদযাপন করাকে হজ বলে।
শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর হজ করা ফরজ। জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সে ঘরের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য।’ সুরা ইমরান। রাসুল (সা.) বলেন, হে মানব সকল! মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা হজ পালন কর। মুসলিম শরীফ। রাসুল (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যাকে আল্লাহ হজ করার সামর্থ্য দিয়েছেন, সে যদি হজ না করে মারা যায়, তবে সে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে।’ মিশকাত শরীফ।
হজের ফরজ কাজ ৩টি। ১. ইহরাম বাঁধা বা নিয়ত করা। হজের নিয়ত করাকে ইহরাম বলে। ইহরাম অর্থ হারাম করে নেয়া। ইহরাম অবস্থায় নিম্নবর্ণিত কাজগুলো নিষিদ্ধ। যেমন—ক) অশ্লীল কথা, কর্ম, ঝগড়া বিবাদ ইত্যাদি করা। খ) কোনো পশু-পাখি শিকার করা বা শিকার দেখিয়ে দেয়া। তবে মাছ শিকার করা নিষেধ নয়। গ) উঁকুন বা পোকা মাকড় মারা ঘ) সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা ঙ) নখ-চুল ইত্যাদি কাটা চ) সেলাই করা জামা-কাপড় পরিধান করা ছ) মাথা মুখ আবৃত করা।
২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। হজের দ্বিতীয় ফরজ হলো ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা। এখানে ৯ তারিখ সূর্য উদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। এখানে জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে পড়তে হয়।
৩. তাওয়াফে জিয়ারত করা। জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে কাবা ঘরের তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফে জিয়ারত বলে।
হজের ওয়াজিব কাজ ৭টি। ১. মুযদালিফায় রাত যাপন করা। ৯ জিলহজ সূর্য অস্তের পর আরাফার মাঠ থেকে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিয়ায় রাত যাপন করতে হয়। এখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে পড়তে হয়। জাবালে কুবাহ পাহাড়ের পাদদেশে ইবাদতের মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করে ফজরের নামাজ পড়ে সূর্য উদয় হওয়ার আগে মিনার দিকে রওনা দিতে হয়। ২. সাঈ করা, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ বা দৌড়ানোকে সাঈ বলে। ৩. কঙ্কর নিক্ষেপ করা। ১০ থেকে ১২ তারিখ মিনায় তিনটি জামরাতে ৪৯টি পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। পাথর নিক্ষেপের সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলবে। ৪. কোরবানি করা। ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে কোরবানি করা। ৫. মাথার চুল কাটা বা কামানো। মহিলা হাজীদের চুলের অগ্রভাগের কিছু অংশ কাটতে হয়। কোরবানির পর ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মাথা কামাতে হয়। ৬. মক্কার বাইরের হাজীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা। ৭. দম দেয়া। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় হজের কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে তার কাফফারাস্বরূপ অতিরিক্ত একটি কোরবানি দিতে হয়। এ ধরনের কোরবানিকেই দম বলে।
হজের সুন্নাত কাজ ৯টি ১. তাওয়াফে কুদুম। মক্কা শরীফ পৌঁছার পর সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করা হয় তাকেই তাওয়াফে কুদুম বলে। ২. রমল : তাওয়াফের মধ্যে উভয় বাহু সঞ্চালন করে বীর সৈনিকের মতো হাঁটাকে রমল বলে। ৩. খুতবা ৭ জিলহজ মক্কা শরীফে, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে, ১১ জিলহজ মিনা ময়দানে বাদশাহর খুতবা শোনা ৪. ৮ জিলহজ মিনার ময়দানে জোহর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত অবস্থান করা ৫. ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের দিকে রওনা হওয়া ৬. আরাফাতে অবস্থানের জন্য গোসল করা, ৭. ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর ইমামের অনুবর্তী হয়ে মুযদালিফার দিকে রওনা হওয়া ৮. ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনার ময়দানে রাত যাপন করা ৯. মিনা থেকে মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তনকালে মুহাসসার নামক স্থানে কিছু সময় অবস্থান করা।
হজের নিয়ত করা বা ইহরাম বাঁধার পর অধিক পরিমাণ তালবিয়া পাঠ করতে হয়। ইহরাম বাঁধার পূর্বশর্ত তালবিয়া পাঠ। সেই তালবিয়া হলো লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা-শারিকালাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়াননিয়মাতা লাকা ওয়াল মূলক; লা শারিকা লাক। অর্থঃ হে আল্লাহ আমি হাজির তোমার দরবারে। হে খোদা তোমার দুয়ারে আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই। তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। সর্বপ্রকার প্রশংসা ও নেয়ামত সামগ্রী সব কিছুই তোমার। সর্ব যুগে ও সর্বত্র তোমারই রাজত্ব তোমার কোনো শরিক নেই।
হজের নিয়ত : আল্লাহুম্মা উরিদাল হাজ্জা ওয়াল ওমরাতা ওয়াজিয়ারাতা অথবা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান।
রাসুল (সা.) বলেন, মাকবুল হাজের বিনিময় একমাত্র জান্নাত। বোখারি মুসলিম শরীফ। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে মকবুল হজ নসিব করুন।
লেখক : শিক্ষক, ভাষাপ্রদীপ উচ্চ বিদ্যালয় পোস্তগোলা, ঢাকা

Relaeted Other Islamic Blog

Other Blog-site: